শিরোনাম
কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ জানুয়ারি সকলের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই মুজিববর্ষের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সেমিনার আজ তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান জননেতা আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের ৫৮ তম জন্মদিন অবস্থা ভালো দেখে একরাম নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন: আবদুল কাদের মির্জা সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের ইন্তেকাল নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে ডিসির শীতবস্ত্র বিতরণ সুবর্ণচরে মোবাইল না পেয়ে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা সুবর্ণচরে তরুণীকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ৫ সোনাইমুড়ীতে মাওলানা আবদুর রশিদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০১ অপরাহ্ন

করোনাকালীন শিক্ষাব্যবস্থার দুর্ভোগ ও উত্তরণ ভাবনা: প্রফেসর মোঃ আবুল বাশার

রিপোটারের নাম / ২৬২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

মানবজাতি মহা দুর্যোগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময় অতিক্রম করছে। মানুষের অস্তিত্ব সঙ্কট হুমকির সম্মুখীন। চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রভূত উন্নতি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসম্ভব বিকাশ ও বিস্তার সত্ত্বেও করোনা ভাইরাসের প্রকোপ প্রকৃতির কাছে মানব সভ্যতার অসহায়ত্ব প্রকাশ হয়ে পড়েছে। পৃথিবীতে মানবজাতি জ্ঞাত-অজ্ঞাত ইতিহাস জুড়ে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে বারবার পড়েছে এবং নবদ্বীপ্তিতে আবার জেগে উঠেছে, ধ্বংস স্তুপের উপর মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রার ভিত রচনা করেছে।

অতিমারি করোনার বিস্তারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক শিক্ষা গ্রহণ, ভর্তি এবং শিক্ষা সম্পর্কীয় অন্যান্য ধারাবাহিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে।

Eye to eye contact বা প্রত্যক্ষ পদ্ধতিতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম একটি অনুশীলিত দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া। ছাত্র-শিক্ষকের সম্মিলনে বিদ্যাচর্চা জনপ্রিয় ব্যবস্থা যা শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য- আচরণগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছিল। এই অনুশীলন কার্যক্রম বন্ধ বা দীর্ঘকালীন অভ্যাসের ছেদ শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থবির করে ফেলেছে।

মানুষ যেকোন অবস্থায় সাময়িকভাবে থমকে গেলেও তাঁকে জীবন-জীবিকার জন্য সৃজনশীল ক্রিয়া-কৌশল সৃষ্টি করতে হয় এবং মানুষ তাই করে এসেছে। মানুষ পরিবর্তনশীল সকল অবস্থায় তার অভিযোজন (Adaptation) ক্ষমতায় টিকে আছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে।

দীর্ঘদিন হতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং এদেশেও দূর প্রশিক্ষণ, audio-visual এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছিল কিন্তু তা কখনো শ্রেণিকক্ষে বা পরীক্ষাগারে শিক্ষা অনুশীলনের বিকল্প হয়ে উঠে নাই। এখন সময় এসেছে আমাদেরকে গতানুগতিক ধারার বাইরে আসার। আমাদের ভাবনা-চিন্তার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

আমাদের দেশে গত একদশক হতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের সার্বিক কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়িত কর্মসূচি আমাদেরকে এ সময়ে কার্যকর পাঠদান প্রক্রিয়া প্রণয়নে প্রভূত ভাবে সাহায্য করেছে। ICT পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত একটি আবশ্যিক বিষয় আছে এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দ্বারা শিক্ষকগণকে ICT এর উপর যথেষ্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে ICT এর লব্ধ জ্ঞানের সার্থক প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তির সর্বোত্তম প্রয়োগের দ্বারা Online বা On air এর সকল প্রক্রিয়ার মধ্য হতে উত্তম পদ্ধতিতে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে পারি। এ মধ্যে ক্ষুদ্র পরিসরে Online ক্লাস শুরু হয়েছে এবং ব্যাপক হওয়ার পথে আছে। শান্তি ও দুর্যোগে ICT এর প্রায়োগিকতা বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রেণীভিত্তিক শিক্ষা নির্ভরতা কমাতে হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকদেরকে IT এর জ্ঞান অর্জন ও Online ক্লাস করার উপযোগী হতে হবে ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে Online ক্লাস শুধুমাত্র শিক্ষার্থী দেখছে না, অভিভাবক ও অনেক আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ দেখে থাকেন। ভবিষ্যতে যখন আমরা আবার শ্রেণীভিত্তিক ক্লাসে ফিরে যাব তখন Online ক্লাস বন্ধ না করে তার ধারাবাহিকতা এবং গতিশীলতা বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা আমাদের এখনই নিতে হবে। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এখনকার সময়ে খুবই হতাশাজনক।

Online ক্লাসের জন্য আমাদের যা প্রয়োজন হচ্ছে তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

১। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সহজলভ্যতা, ইন্টারনেটের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সুলভকরণ।

২। সোশ্যাল মিডিয়া- Facebook, টুইটার, Zoom অ্যাপ,গুগোল ইনস্ট্রগ্রাম, Imo, Messenger, Whatsapp, ড্রাইভার স্কাইপি এবং আরো অনেক অ্যাপ ব্যবহার এখন সমানতালে হচ্ছে। এ সমস্ত অ্যাপ ব্যবহার গতিশীল ও কার্যকর রাখার ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।

৩। শিক্ষকগণকে Internet এর ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রদান এবং দক্ষতা ভিত্তিক মূল্যায়ন করণ।

৪। শিক্ষার্থীদের কে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারের জন্য Internet প্যাকেজ MB/GB সুলভে সরবরাহকরণের ব্যবস্থা করা।

৫। দেশের সরকারি-বেসরকারি TV চ্যানেল কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লাস প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা গ্রহণ এবং এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের কমন বিষয়সমূহ লাইভ অথবা রেকর্ডকৃত ক্লাসের ব্যবস্থা গ্রহণ।

পরিশেষে আমাদের বক্তব্য হবে নেতিবাচক চিন্তা-চেতনার বাহিরে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সবাইকে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে জীবন ও কর্মের প্রবাহ সচল রাখার ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে আগামী দিনের শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষা ব্যবস্থা Global Village এর ধারণাকে রপ্ত করে IT তথা প্রযুক্তিভিত্তিক এক নতুন জাগতিক শিক্ষা কাঠামো দাঁড়াবে। যে শিক্ষা কাঠামো কর্মমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক এবং জাতীয় চেতনার আকীর্ণ ও নৈতিক মানে সমুন্নত থাকবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে স্বাগত জানানো এবং SDG অর্জনে IT ভিত্তিক Online বা On air পঠন-পাঠনের, ভর্তি কার্যক্রম এবং পরীক্ষাসমূহ ও অন্যান্য কার্যক্রম সর্বাত্মকভাবে গ্রহণ এখনই প্রয়োজন। সবাইকে সমন্বিতভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে সুষ্ঠু নীতি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নের কর্মপন্থা নির্ধারণের আহ্বান রাখছি।

লেখক: অধ্যক্ষ, চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজ, নোয়াখালী



আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ