শিরোনাম
কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ জানুয়ারি সকলের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই মুজিববর্ষের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সেমিনার আজ তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান জননেতা আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের ৫৮ তম জন্মদিন অবস্থা ভালো দেখে একরাম নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন: আবদুল কাদের মির্জা সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের ইন্তেকাল নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে ডিসির শীতবস্ত্র বিতরণ সুবর্ণচরে মোবাইল না পেয়ে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা সুবর্ণচরে তরুণীকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ৫ সোনাইমুড়ীতে মাওলানা আবদুর রশিদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদের ইন্তেকাল

রিপোটারের নাম / ১২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

নিউজ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

জানা গেছে, ভোররাতে স্ট্রোক করার পর ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া হলে পৌনে ছয়টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক এমাজউদ্দীন। মরদেহ এখনও ল্যাবএইড হাসপাতালে রয়েছে।

প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ১৯৩২ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন মালদাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভারতের কিছু অংশ) জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ‘গোহাল বাড়ি’ এলাকায় পরিবারসহ দীর্ঘদিন বসবাস করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন। তিনি শিবগঞ্জের আদিনা সরকারি ফজলুল হক কলেজ ও রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র।

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, ১৯৫২ এর পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতা হিসেবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ কারাবরণও করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং উপাচার্য (১ নভেম্বর ১৯৯২-৩১ আগস্ট ১৯৯৬] হিসেবে দীর্ঘদিন সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) ভিসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তুলনামূলক রাজনীতি, প্রশাসন-ব্যবস্থা, বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। এসব ক্ষেত্রে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবেও প্রখ্যাত। তার লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। দেশ বিদেশের খ্যাতনামা জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধের সংখ্যা শতাধিক।

তার লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের কথা(১৯৬৬)
মধ্যযুগের রাষ্ট্র চিন্তা (১৯৪৫)
তুলানামূলক রাজনীতি: রাজনৈতিক বিশ্লেষণ (১৯৮২)
বাংলাদেশে গণতন্ত্র সংকট (১৯৯২)
সমাজ ও রাজনীতি (১৯৯৩)
গণতন্ত্রের ভবিষৎ ( ১৯৯৪)
শান্তি চুক্তি ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৯৮)
আঞ্চলিক সহযোগিতা, জাতীয় নিরাপত্তা (১৯৯৯)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০০০)

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সৃজনশীল লেখার জন্যে তিনি দেশ ও বিদেশে বিশেষভাবে সম্মানিত হয়েছেন। সৃষ্টিশীল গবেষণা ও আলেখ্য রচনার জন্য ‘মহাকাল কৃষ্টি চিন্তা সংঘ স্বর্ণপদক’, জাতীয় সাহিত্য সংসদ স্বর্ণপদক, জিয়া সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক অর্জন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯২ সালে একুশে পদক, মাইকেল মধুসুদন দত্ত গোল্ড মডেল, শেরে বাংলা স্মৃতি স্বর্ণপদক, ঢাকা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট গোল্ড মেডেল, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম স্বর্ণপদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেন।

তিনি বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিএনপিকে বিভিন্ন সময় গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপিও বিভিন্ন ইস্যুতে তার মতামতকে গুরুত্ব দিতো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ