রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ করলো বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি

রিপোটারের নাম / ১৮৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

কোভিড-১৯ এর অভিঘাত মোকাবেলা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।
সোমবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ‘কোরনার (কোভিড-১৯) মহাবিপর্যয় থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনিমার্ণে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা’ শিরোনামে এই বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে সংগঠনটি।

সমিতির সহসভাপতি এ জেড এম সালেহের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ।
সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন,‘লকডাউনে গৃহবন্দী ও ব্যবসা-বাণিজ্য-কল-কারখানায় স্থবিরতার কারণে যে ক্ষয়-ক্ষতি-বিপর্যয় ঘটেছে তা মোকাবেলায় বাজেট সংকোচনমূলক হওয়া উচিত নয় বলে আমরা মনে করি। বরং এবার ম্প্রসারণমূলক বাজেটের কোনো বিকল্প নেই। ১৭ কোটি মানুষের দেশে বড় বাজেট দিতে হবে।’
তিনি এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য,কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার প্রস্তাব করেন।


অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা,অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের ৯০ দশমিক ৬ শতাংশের যোগান দেবে সরকারের রাজস্ব আয়। আর বাজেটের বাকী ৯ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ ঘাটতি অর্থায়নে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা যোগান দেবে সম্মিলিতভাবে বন্ড বাজার, সঞ্চয় পত্র বিক্রয় থেকে ঋণ গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব। অন্যদিকে কোনো বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন হবে না বলে সংগঠনটি বলছে।
প্রস্তাবনায় বাজেটের ব্যয় বরাদ্দ কাঠামোতে গুণগত রূপান্তরের কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। মোট বরাদ্দ ও আনুপাতিক বরাদ্দে উন্নয়ন বাজেট হবে পরিচালন বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি যা এখন ঠিক উল্টো। এখন উন্নয়ন-পরিচালন বাজেট বরাদ্দের অনুপাত ৪০:৬০,সেখানে সমিতির প্রস্তাবনা হলো ৫৭:৪৩।

আবুল বারকাত বলেন,রাজস্ব আয়ের ৭৯ শতাংশ হবে প্রত্যক্ষ কর এবং ২১ শতাংশ হবে পরোক্ষ কর। কাঠামোগত এ পরিবর্তনটি মৌলিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রতিকূল অবস্থা সামলানোর জন্য দেশে সীমিত আকারে টাকা ছাপানোর পরামর্শ দেন দেশের বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন,অনেকেই টাকা ছাপানোর বিপক্ষে থাকবেন। তবে প্রয়োজন হলে সীমিত নতুন টাকা ছাপানো যেতে পারে। অবশ্য সেটা বেশি হওয়া যাবে না।

আবুল বারকাত অর্থনীতি সমিতি পরিচালিত এক গবেষণা ফলাফল তুলে ধরে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর মহাবিপর্যয় দেশের শ্রেণিকাঠামোকে পাল্টে দিয়েছে। সতেরো কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৬৬ দিনে বিশাল এক ‘নব-দরিদ্র’ গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে। লকডাউনের আগে দরিদ্র মানুষের মোট সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ যা লকডাউনের মাত্র ৬৬ দিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৫ কোটি ৮০ লাখ। ব্যাপক সংখ্যক মানুষ খুবই দ্রুত সময়ে, মাত্র ৬৬ দিনের মধ্যে ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে দরিদ্র হয়েছেন। তথ্যসূত্র:বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ