1. admin@noakhalinews24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘন্টায় ৭২ জন করোনা রোগী শনাক্ত। নোয়াখালী সদর-১১, সুবর্ণচর-০১, হাতিয়া-০০, বেগমগঞ্জ-২১, সোনাইমুড়ি-১৯,চাটখিল-০৭,সেনবাগ-১৩,কোম্পানীগঞ্জ-০০ এবং কবিরহাট-০০ জন।

ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা

  • বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১
  • ২১৬ বার পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিনঃ ১০ই মুহাররাম। হিজরী নববর্ষের প্রথম মাসের দশম তারিখ। ‘আশুরা’ নামে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লেবানন ও ইরানসহ বিশ্বের কয়েকটি মুসলিম দেশে দিনটি উদযাপিত একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। মূলতঃ কারবালার বিয়োগান্ত ও বিষাদময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব দেশে পালিত হয় আশুরা।

কারবালার ঘটনাই কি আশুরা?:

৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর, ১০ই মুহাররম, ৬১ হিজরী মানব ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য, বিকৃত ও হিংস্রাত্মক ঘটনা ঘটানো হয় রাসূলুল্লাহ (সা)- এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত হুসাইন (রা) ও তাঁর পরিবারের সাথে। আহলে বায়তের উপর চালানো হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। পৃথিবীর যে কোন পাঠককে আজও ব্যথিত করে কারবালার ঘটনা। ঐতিহাসিক গীবন তাই বলেন , In a distant age and climate the tragic scene of the death of Husayn will awaken the sympathy of the coldest reader.

 অর্থাৎ,”দূরবর্তী সময়ে এবং আবহাওয়ায় হুসাইনের মৃত্যুর হৃদয়-বিদারক দৃশ্য নিতান্ত নিরাসক্ত পাঠকেরও সহানুভূতির উদ্রেগ করবে।“

উমাইয়া রাজতান্ত্রিকের উত্তরাধিকরী ইয়াজিদের আনুগত্যকে অস্বীকার করা ও খিলাফতের মহান দায়িত্ব থেকে ইয়াজিদকে অপসারণের দাবিতে হযরত ইমাম হুসাইন (রা) ও তাঁর পরিবার কুফা অভিমুখে রওয়ানা দেন।কিন্ত,দুঃশ্চরিত্র, ভোগবিলাসী ইয়াজিদের বিশ্বস্ত অনুচর কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ – বিন – যিয়াদের নির্দেশে ঘাতক ‘সীমার’ হযরত ইমাম হুসাইন (রা)- এর মস্তক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। শহীদ হয়ে গেলেন হযরত হুসাইন (রা)। শহীদ হলেন তাঁর শিশুপুত্র আসগর। একমাত্র রুগ্ন শিশুপুত্র ‘জয়নুল আবেদীন’ ব্যতীত হযরত হুসাইন (রা)- এর পরিবারের সকল পুরুষই শাহাদাৎ বরণ করেন। হযরত হুসাইন (রা)- এর ছিন্ন মস্তক রাজধানী দামেস্কে ইয়াজিদের কাছে নেয়া হলেও ইয়াজিদ ওবায়দুল্লাহ – বিন – যিয়াদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। তাই ইতিহাস তাকে, ওবায়দুল্লাহ – বিন – যিয়াদ ও সীমারকে অপরাধীর কাঠগড়ায় ‘বিচার দিবস’ পর্যন্ত দন্ডিত করে রাখবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। সত্য, ন্যায় ও খিলাফতের পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য হযরত হুসাইন (রা) নিজেকে আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দেয়ার জন্য যে দৃষ্টান্ত মুসলিম  উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন তা যুগযুগ ধরে সত্যের ধারক ও বাহকদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। এজন্যই মহাকবি ইকবাল বলে গেছেন, “ইসলাম জেন্দা হোতা হায়, হার কারবালা কি বা’দ।“ অর্থাৎ, ‘এক একটি কারবালার পরেই ইসলাম নব জীবন লাভ করে।“

কারবালার এ বিয়োগান্ত ঘটনার একটি প্রত্যক্ষ ফলাফল হলো মুসলিম বিশ্বে ‘শিয়া’ সম্প্রদায়ের উদ্ভব। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, কারবালার ঘটনাই আশুরার একমাত্র বিষয়বস্তু নয়।

আশুরা কী: ‘আশুরা’ একটি আরবি স্ত্রীবাচক শব্দ। ‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আল-আশের’ শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ হলো দশ বা দশম। মুহাররম মাসের ১০ তারিখ বা দশম তারিখকে আশুরা বলা হয়। ‘আশুরা’ শব্দের প্রথম প্রয়োগ হাদিসে করা হয়েছে। ইমাম মুসলিমসহ আরো কয়েকজন মুহাদ্দিস ‘সিয়ামে আশুরা’ বা আশুরার সিয়ামের কথা স্ব স্ব হাদিসগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আশুরার সিয়াম থেকে আশুরা: হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন রোযা রাখতো। জাহিলি যুগে রাসূলুল্লাহ (সা)ও এ রোযা রাখতেন। এ প্রসঙ্গে আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস হলো- আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, “কুরাইশরা জাহিলিয়াতের যুগে আশুরার রোযা রাখতো। জাহিলিয়াতের যুগে রাসূলুল্লাহ (সা ও এই দিন রোযা রাখতেন। (হিজরত করে) তিনি যখন মদীনায় আসেন, তখনও তিনি এ রোযা রেখেছেন এবং তা রাখার নির্দেশও দিয়েছেন। কিন্তু যখন রমযানের রোযা ফরয হলো, তখন আশুরার দিন রোযা রাখা ছেড়ে দেয়া হলো। যার ইচ্ছা এ রোযা রাখবে এবং যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিবে। (সূত্রঃ সাওম অধ্যায়, বুখারী, হাদিস-১৮৬১ )

তাই মূলতঃ আশুরা শব্দটি এসেছে আশুরার সাওম বা আশুরার রোযা থেকে। আশুরার দিনের ফযীলত জাহিলি যুগেও ছিল, রাসূলুল্লাহ (সা) এর যুগেও ছিল। সুতরাং, শুধুমাত্র ‘কারবালার’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশুরা শব্দের ব্যবহার সম্পূর্ণ ভুল। বরং কারবালার ঘটনা হল আশুরার দিনের অন্যতম ঘটনা।

আশুরার দিনের মর্যাদা কতখানি: আশুরার দিন যেহেতু মুহাররামের দশম দিন, সেহেতু এ দিন ও মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। আল কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৩৬নং আয়াতে এ মাসের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,“আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহ তা’আলার বিধানে মাসের সংখ্যা বারোটি, যা রয়েছে আল্লাহর কিতাবে। তম্মধ্যে চারটি হচ্ছে নিষিদ্ধ (হারাম) মাস; এটা প্রতিষ্ঠিত জীবন ব্যবস্থা। সুতরাং, তোমরা এ হারাম মাসে  নিজেদের ওপর যুলুম করবেনা। আর মোশরেকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রাম কর,যেভাবে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে লড়ে। আর জেনে রাখো, আল্লাহ তা’আলা তাদের সাথে রয়েছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।“(সূরা আত-তাওবাঃ ৩৬)

সূরা আত-তাওবায় যে চারটি হারাম মাসের কথা বলা হয়েছে, মুহাররম তম্মধ্যে অন্যতম। সুতরাং মুহাররম মাস হারাম মাসগুলির একটি। হারামের দুইটি অর্থ- (ক) হারাম অর্থ নিষিদ্ধ (খ) হারাম অর্থ সম্মানিত।আশুরার সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত হাদিস। “ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) লক্ষ্য করলেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিন রোযা রাখে। তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, এটা কী? (কী ধরণের রোযা) ? তারা উত্তর দিল, এটি একটি পবিত্র দিন। এ দিন আল্লাহ তা’আলা বনী-ইসরাঈলের শত্রুদের থেকে তাদের মুক্তি দিয়েছেন। তাই এদিন মু’সা (আ) রোযা রেখেছেন। (তখন) রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, আমি তোমাদের তুলনায় মু’সার বেশি হকদার। অতঃপর তিনি রোযা রাখলেন এবং এ দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।“(বুখারী, সিয়াম অধ্যায়, হাদিস- ১৮৬৩)

আশুরার দিনের রোযা কয়টি: সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণীত হয় যে, আশুরার দিনের আমল একটি তা হলো রোযা রাখা । এ রোযা রাখার দ্বারা আল্লাহ তা’আলা গত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। এদিনে অর্থাৎ, মুহাররমের দশম দিনে ইহুদীরা রোযা রাখে। সেহেতু রাসূলুল্লাহ (সা) মুসলিম উম্মাহকে উহুদীদের বিপরীত করতে বলেছেন। অর্থাৎ, আশুরার রোযা দুইটি রাখতে বলেছেন।  হয় ৯ ও ১০ রাতিখের রোযা, অথবা ১০ ও ১১ তারিখের রোযা। এ সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত হাদিসটি হলোঃ তিনি বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “তোমরা আশুরার সাওম পালন কর। আর এ ক্ষেত্রে ইহুদীদের বিপরীত কর। তোমরা আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।“(সূত্রঃ ইবনে খুযায়মা, মুসনাদ আহমাদ ১/২৪১)

আশুরার দিনের রোযার গুরুত্ব কতখানি তা হযরত ইবনে আব্বাস (রা) – এর আরেকটি হাদিস থেকে বুঝা যায়। তিনি বলেছেন, “আমি নবী (সা)- কে সাওম রাখার জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি, যত দেখেছি এ আশুরার দিন এবং এ মাস অর্থাৎ রমযান মাসের সাওমের প্রতি।“(সূত্রঃ বুখারী, সিয়াম অধ্যায়, হাদীস- ১৮৬৫)

আশুরার সাওম গত এক বছরেরকাফফারা:

এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম (র) একটি হাদিস হযরত কাতাদাহ (রা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “আশুরার দিনের সাওমের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।” ( সহীহ মুসলিম, হাদিস -১৯৭৬) এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “পবিত্রতা অর্জন সালাত, রমযান, আরাফা ও আশুরার সাওম কেবল সগীরা বা ছোট ছোট গুনাহের কাফফারা।“( আল ফাতওয়াল কুবরা, ৫ম খন্ড)

আশুরার দিনে প্রচলিত কিছু বিদআত: আশুরার দিনের প্রচলিত বিদ’আত বা দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াভহ হলো, শাহাদাতে কারবালা হযরত হুসাইন (রা)- এর জন্য শোক করা, শোক মিছিল করা, মুখ চাপড়ানো, শরীরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তান্ত করা, শরীরে বেত্রাঘাত করা, তাজিয়া মিছিল করা, শোকগাঁথা পাঠ, হযরত হুসাইন (রা)- এর কল্পিত কবর তৈরি করা, কপড় ছিড়ে ফেলা। তাজিয়া মিছিলে ‘হায় হোসাইন ও ইয়া আলী’ বলে মাতম করা। এ সকল কর্মকাণ্ড  সম্পূর্ণরূপে বিদ’আত। বাংলাদেশসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে শি’য়া মুসলমানরা মূলতঃ এ ধরণের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড করে যার সাথে ইসলামের দূরতম সম্পর্কও নেই। মুহাররম আল্লাহর সম্মানীত মাস হওয়া সত্ত্বে আমাদের সমাজের সহজ-সরল কতিপয় মুসলিম এ মাসকে শোকের মাস ধরে এ মাসকে অশুভ মনে করে। এজন্য অনেকে এ মাসে বিয়ে-শাদী থেকেও বিরত থাকে। বলাবাহুল্য এ ধরণের বিশ্বাস সম্পূর্ণ শরী’আ বিরোধী যা কুসংস্কারের নামান্তর। বাংলা সাহিত্যে কারবালার ঘটনা নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গদ্য ও পদ্য সাহিত্য।বিশেষতঃ ‘মীর মোশাররফ হোসেন’এর ‘বিষাদ সিন্ধু’ বিষয়ক উপন্যাস। যেখানে কারবালার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। কিন্তু পাঠক মহলে তা খুবই নাড়া দেয়। আমাদের জাতীয় কবিও ‘মুহাররম’ শীর্ষক কবিতা লিখেছেন যা অনেকটা ঐতিহাসিকভাবে নিরপেক্ষ।

আশুরার দিন সম্পর্কে আরো বিভ্রান্তি: বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের কিছু সংখ্যক সাধারণ মুসলিমদের মাঝে ভিন্ন ধরণের বিভ্রান্তি ও কুসংস্কার রয়েছে। যেমন, এ দিন সুরমা লাগানো, গোসল করা, মেহেদি লাগানো, মুসাফাহা করা, খিচুড়ি রান্না করা, আনন্দ উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। এসকল কর্মকান্ড কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী।

ইমামদের মতামত: উপরিল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “এসব রুসুম-রেওয়াজ, অনুষ্ঠানাদি উদযাপন প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে কোনো সহীহ হাদিস বর্ণিত হয়নি, এমনকি কোনো সাহাবি থেকেও নয়। চার ইমামসহ নির্ভরযোগ্য কোনো আলেমও এসব কাজকে সমর্থন করেননি। কোনো মুহাদ্দিস এ ব্যাপারে সহীহ কিংবা দুর্বল হাদিস বর্ণনা করেননি। তাবে’ঈনদের থেকেও এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি।“

আশুরা বিষয়ক কয়েকটি জাল হাদীস: ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, আশুরা নিয়ে সালফে সালেহীনদের পরবর্তী যুগে কেউ কেউ কিছু বানোয়াট ও জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তম্মধ্যে-

(ক) ‘”যে ব্যক্তি আশুরার দিন সুরমা লাগাবে সে ব্যক্তি সে বছর থেকে চক্ষুপ্রহাহ রোগে আক্রান্ত হবে না।”

(খ) “যে ব্যক্তি আশুরার দিন গোসল করবে সে সেই বছর থেকে রোগাক্রান্ত হবে না।”

(গ) “যে ব্যক্তি আশুরার দিন নিজ পরিবারের ওপর উদার হস্তে খরচ করবে আল্লাহ তা’আলা সারা বছরের জন্য তাকে সচ্ছলতা দান করবেন।”

উম্মাহর সিদ্ধান্ত কী হবে: ১০ই মুহাররমের আশুরা ও কারবালার ঘটনা দুটিই একই দিনে হওয়ায় এ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম, এ ক্ষেত্রে মুহাররম মাসের মর্যাদা, ১০ই মুহাররমের ফযীলত ও করণীয় ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে ১০ই মুহাররমের একমাত্র কাজ মনে করা গোমরাহী। দুটির স্বতন্ত্র মর্যাদা রয়েছে। ‘কারবালার’ প্রান্তরে ‘আহলে বায়াতের’ নির্মম শাহাদাৎ অবশ্যয়ই প্রতিটি মুসলিম হৃদয়ে বেদনার আঘাত সৃষ্টি করবে যুগ থেকে যুগান্তরে। হযরত হুসাইন (রা)- এর শাহাদাৎ সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামে অনুস্মরনীয় হয়ে থাকবে আমাদের হৃদয়ে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায়, অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার যে মহান শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন তাই হোক আশুরার শিক্ষা। যুগে যুগে হুসাইন (রা)- এর বিজয় হবে, নিপাত যাবে ইয়াযিদী গোষ্ঠির। তাই, আশুরাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণই হেকে আমাদের আজকের প্রত্যয়। জাতীয় কবির সুরে বলতে চাই,

“ফিরে এলো আজি সেই মুহররম মহিমা,

ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা।”

লেখক:

(মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিন

সিনিয়র শিক্ষক

মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

পিএইচডি গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

ভাল লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
© noakhalinews24 2021 All rights reserved
Theme Customized By BreakingNews